ক্যালিফোর্নিয়ার সমুদ্র সিংহ: বিষাক্ত শৈবালের প্রভাবে এক সংকট। পশ্চিম উপকূলের ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যে এক মারাত্মক ঘটনা ঘটেছে।
সেখানকার সমুদ্র সিংহ এবং অন্যান্য সামুদ্রিক প্রাণীর জীবন এখন হুমকির মুখে। সম্প্রতি, বিষাক্ত শৈবালের কারণে সৃষ্ট এক বিশাল সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে তারা।
এই শৈবালগুলি এক ধরনের বিষ তৈরি করছে, যা তাদের শরীরে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। এর ফলে, প্রাণীগুলির আচরণে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে, কিছু ক্ষেত্রে তারা মানুষের উপর আক্রমণ পর্যন্ত করছে।
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, *প্সিউডোনিতজসিয়া* নামক এক প্রকার শৈবাল এই ঘটনার মূল কারণ। এটি এক ধরনের এককোষী শৈবাল, যা পানির মধ্যে বিস্তার লাভ করে।
এই শৈবাল এক ধরনের শক্তিশালী নিউরোটক্সিন (স্নায়ুবিষ) তৈরি করে, যার নাম ডমইক অ্যাসিড। এই অ্যাসিডের প্রভাবে সামুদ্রিক প্রাণীদের মস্তিষ্কের কার্যকারিতা হ্রাস পায়, যা তাদের আচরণে পরিবর্তন ঘটায়।
এই ঘটনার শিকার হওয়া প্রাণীগুলির মধ্যে সমুদ্র সিংহ এবং সাধারণ ডলফিন উল্লেখযোগ্য। বিষাক্ত ডমইক অ্যাসিডের প্রভাবে তারা দুর্বল হয়ে পড়ছে, খিঁচুনি হচ্ছে এবং দিকভ্রান্ত হয়ে পড়ছে।
কোনো কোনো ক্ষেত্রে, তারা মানুষের উপর আক্রমণও করছে, যা আগে খুবই বিরল ছিল। সম্প্রতি, ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসের উত্তরে এক সার্ফারকে আক্রমণ করে একটি সমুদ্র সিংহ।
ভীত সার্ফার কোনোরকমে সমুদ্র থেকে নিজেকে রক্ষা করেন।
এই ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে বিজ্ঞানীরা সমুদ্রের পানিতে পুষ্টির অভাব এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবকে দায়ী করছেন। সাধারণত, সমুদ্রের গভীর থেকে পুষ্টিসমৃদ্ধ জল উপরে উঠে আসে, যা শৈবালের বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
তবে, অতিরিক্ত নাইট্রোজেন এবং কম সিলিকার কারণে *প্সিউডোনিতজসিয়া* আরও বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং বিষ তৈরি করে।
সমুদ্র সিংহের উপর ডমইক অ্যাসিডের প্রভাব খুবই মারাত্মক। বিষাক্ত খাবার খাওয়ার ফলে তাদের শরীরে এই অ্যাসিড প্রবেশ করে।
বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, একবার যদি কোনো প্রাণীর শরীরে এই বিষ প্রবেশ করে, তবে তা থেকে সম্পূর্ণ মুক্তি পাওয়া কঠিন। এমনকি, অল্প পরিমাণে বিষক্রিয়াও তাদের স্মৃতিশক্তির উপর প্রভাব ফেলতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং বিভিন্ন সামুদ্রিক গবেষণা কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত প্রাণীগুলিকে উদ্ধারের চেষ্টা করছে। অসুস্থ সমুদ্র সিংহদের চিকিৎসা করে তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
তবে, বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করতে হলে পরিবেশ সুরক্ষার দিকে আরও বেশি মনোযোগ দিতে হবে। দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে যদি আমরা বিষয়টি বিবেচনা করি, তাহলে দেখতে পাই যে, আমাদের দেশেও বিভিন্ন সময়ে জলজ পরিবেশ দূষণের কারণে মাছ এবং অন্যান্য জলজ প্রাণীর জীবন বিপন্ন হয়।
তাই, ক্যালিফোর্নিয়ার এই ঘটনা আমাদের জন্য একটি সতর্কবার্তা। পরিবেশ সুরক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং জলজ প্রতিবেশ রক্ষার জন্য জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।
তথ্য সূত্র: ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক