গাজায় আবারও বাস্তুচ্যুত হওয়ার আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে ফিলিস্তিনিরা। ইসরায়েলি বাহিনীর নতুন করে এলাকা ছাড়ার নির্দেশের পর সেখানকার মানুষ চরম হতাশা আর উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। জীবন ধারণের প্রয়োজনীয় সামান্য কিছু জিনিসপত্র নিয়ে তারা হয়রানির শিকার হচ্ছে।
যুদ্ধের কারণে গাজার পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে, সেখানে নিরাপদ আশ্রয় খুঁজে পাওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে।
উত্তর গাজার জাবালিয়ায় বসবাসকারী ইহাব সুলাইমান ও তার পরিবারকে ১৯ মার্চ ঘর ছাড়তে হয়। গত ১৮ মাসের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে তারা এর আগে সাতবার বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
সুলাইমান বলেন, “জীবনটা এখন অর্থহীন হয়ে পড়েছে। আমাদের কাছে জীবন আর মৃত্যুর মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।”
ইসরায়েলের সঙ্গে দুই মাসের যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর নতুন করে হামলা শুরু হওয়ায় সুলাইমানের মতো হাজার হাজার ফিলিস্তিনি তাদের আশ্রয়কেন্দ্র ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। অনেক ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হওয়ার নির্দেশ উপেক্ষা করছেন, কারণ তাদের নতুন করে সবকিছু শুরু করার মতো মানসিক শক্তি নেই।
এমনকি জীবন হারানোর ঝুঁকি নিয়েও তারা নিজেদের অবস্থানে টিকে থাকতে চাইছে।
ইউনিসেফের যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ রোসালিয়া বলেন জানিয়েছেন, দেড় বছর ধরে চলা এই যুদ্ধে শিশু থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত সবাই শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে, গাজায় খাদ্য, জ্বালানি ও অন্যান্য জরুরি সামগ্রী সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে ইসরায়েল।
ত্রাণ সংস্থাগুলো বাস্তুচ্যুত হওয়া মানুষের জন্য তাঁবুসহ অন্যান্য জরুরি আশ্রয় সামগ্রীরও ব্যবস্থা করতে পারছে না।
বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (World Programme) তাদের বেকারিগুলো বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে, কারণ তাদের কাছে আটা ফুরিয়ে গেছে।
গাজার কয়েক লাখ মানুষ রুটির জন্য এই বেকারিগুলোর ওপর নির্ভরশীল।
ইসরায়েলের বাস্তুচ্যুতির নির্দেশনার আওতায় গাজা শহরের অনেক এলাকা, উত্তর খান ইউনিসের কিছু অংশ, এবং রাফা ও তার আশেপাশের এলাকা রয়েছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা