চীনের সামরিক মহড়া: তাইওয়ানের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে, যুক্তরাষ্ট্র
চীন তাইওয়ানের চারপাশে সামরিক মহড়া চালানোয় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তারা বলছে, চীনের এই ধরনের কর্মকাণ্ড এই অঞ্চলের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করছে। বুধবার এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, তারা তাইওয়ান এবং তাদের মিত্রদের পাশে আছে, এবং চীনের “হুমকি ও অস্থিতিশীল আচরণ”-এর নিন্দা জানায়।
সামরিক মহড়ার দ্বিতীয় দিনে চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) তাইওয়ানের মূল ভূখণ্ডের আশেপাশে যুদ্ধবিমান ও নৌবাহিনীর জাহাজ মোতায়েন করে। এতে দেশটির একটি বিমানবাহী রণতরীও অন্তর্ভুক্ত ছিল। চীন এই মহড়াকে তাইওয়ানের বিরুদ্ধে “শাস্তিমূলক ব্যবস্থা” হিসেবে উল্লেখ করেছে। তারা তাইওয়ানের নতুন প্রেসিডেন্টের সাম্প্রতিক কিছু পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়া হিসেবে এমনটা করছে।
চীনের কমিউনিস্ট পার্টি তাইওয়ানকে তাদের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করে এবং প্রয়োজনে তাইওয়ানের সঙ্গে পুনরায় মিলিত হতে সামরিক শক্তি ব্যবহারেরও ইঙ্গিত দিয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, চীন এখনই তাইওয়ানে পূর্ণমাত্রায় সামরিক অভিযান চালানোর মতো অবস্থায় নেই, তবে তারা নিয়মিতভাবে ‘গ্রে জোন’ কৌশল, সামরিক মহড়া, অর্থনৈতিক চাপ, আইনগত ব্যবস্থা ও সাইবার হামলা চালাচ্ছে।
অন্যদিকে, তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে চীনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তিনি গত মাসে চীনকে “বৈরী শক্তি” হিসেবে চিহ্নিত করেন এবং চীনের প্রভাব ও গুপ্তচরবৃত্তি মোকাবিলার জন্য ১৭টি ব্যবস্থা ঘোষণা করেন। তাইওয়ানের জনগণের মধ্যে চীনের শাসনের বিরুদ্ধে প্রবল সমর্থন রয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ান প্রণালীর শান্তি ও স্থিতিশীলতার প্রতি সমর্থন জানায় এবং শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে স্থিতাবস্থা পরিবর্তনের বিরোধিতা করে। চীনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই মহড়াগুলো তাইওয়ানের বিচ্ছিন্নতাবাদী কার্যকলাপের জবাব।
চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলোতে তাইওয়ানের উপর আক্রমণের দৃশ্য এবং প্রেসিডেন্ট লাইকে ব্যঙ্গ করে কার্টুন প্রকাশ করা হয়েছে। চীনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই মহড়াগুলো স্বাভাবিক ঘটনা এবং এর মাধ্যমে তারা নিজেদের সামরিক সক্ষমতা যাচাই করছে।
সামরিক মহড়ার কারণে চীন তাইওয়ানের কাছাকাছি সমুদ্র অঞ্চলে নৌযান চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। তাইওয়ানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই মহড়া তাদের “নিয়ন্ত্রণ অঞ্চলের” বাইরে হচ্ছে।
এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের জন্য উদ্বেগের কারণ হলো, তাইওয়ান প্রণালীর অস্থিরতা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিশ্ব অর্থনীতিকে প্রভাবিত করতে পারে।
তথ্য সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান