মিয়ানমারে আঘাত হানা এক শতাব্দীর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। এরই মধ্যে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।
বুধবার দেশটির রাজধানী নেপিদোর একটি ধসে যাওয়া হোটেল থেকে এক ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। ভূমিকম্পের পাঁচ দিন পর উদ্ধারকারী দল ওই ব্যক্তিকে জীবিত খুঁজে পায়। তুরস্ক ও মিয়ানমারের উদ্ধারকর্মীদের যৌথ প্রচেষ্টায় এই উদ্ধারকাজ সম্পন্ন হয়।
সামরিক জান্তা সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা ইতিমধ্যেই ২ হাজার ৭০০ ছাড়িয়েছে এবং আশঙ্কা করা হচ্ছে, এই সংখ্যাটি ৩ হাজারের বেশি হতে পারে। আসন্ন বর্ষা মৌসুমের আগেই ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য জরুরি ভিত্তিতে ত্রাণ সরবরাহ করার জন্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ম্যান্ডালয় এবং সাগাইং শহরগুলোতে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষের শরীর থেকে আসা গন্ধে সেখানকার বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নেওয়া মানুষজন খাবার, জল এবং প্রয়োজনীয় ঔষধের অভাবে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টেফানে দুজারিক জানিয়েছেন, বর্ষা শুরু হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
মানবিক সংস্থা CARE-এর মিয়ানমার পরিচালক আরিফ নূর বলেছেন, “ভূমিকম্পের ভয়াবহতা ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে। মিয়ানমারে মানবিক পরিস্থিতি এমনিতেই শোচনীয়, তার ওপর এই দুর্যোগ যেন মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা।”
ভূমিকম্পের ফলে আহত হয়েছেন ৪ হাজার ৫০০ জনের বেশি মানুষ এবং এখনো ৪৪১ জন নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে অনেকেরই বেঁচে থাকার সম্ভাবনা ক্ষীণ বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা জানিয়েছে, হাসপাতালগুলোতে আহতদের উপচে পড়া ভিড় এবং অবকাঠামোর ক্ষতির কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে। জাতিসংঘের বিশেষ দূত জুলি বিশপ উভয় পক্ষকে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে ত্রাণকর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় নির্বিঘ্নে প্রবেশ করতে পারেন।
এদিকে, মিয়ানমারের নির্বাসিত বিরোধী দল ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্ট (NUG) এবং স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন যে, ভূমিকম্পের পরেও জান্তা সরকার বোমা হামলা অব্যাহত রেখেছে এবং বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে ত্রাণ সরবরাহ করতে বাধা দিচ্ছে। মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, তারা ভূমিকম্প কবলিত এলাকার কাছে বিমান হামলার খবর পেয়েছে।
অন্যদিকে, তিনটি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সমন্বয়ে গঠিত থ্রি ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্স এক মাসের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছে, যাতে জরুরি ত্রাণ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা যায়। তবে, সামরিক জান্তা সরকার তাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহীদের তৎপরতা চালানোর অভিযোগ করেছে এবং এর উপযুক্ত জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
মিয়ানমার সরকার নিহতদের প্রতি শোক প্রকাশ করে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত সরকারি ভবনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার ঘোষণা দিয়েছে।
তথ্য সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান