দিনের পর দিন ঘুমের অভাবে অস্থির এক নারীর গল্প, যিনি অবশেষে খুঁজে পেলেন তার কষ্টের কারণ।
কোর্টনি মউম নামের এক নারী, যিনি দীর্ঘদিন ধরে অনিদ্রা রোগে ভুগছিলেন। দিনের পর দিন ঘুমের অভাবে তার জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল।
চিকিৎসকদের কাছে সাহায্য চেয়েও পাননি সঠিক সমাধান। সবাই তার মানসিক সমস্যার কথা বলতেন, শারীরিক কারণটি এড়িয়ে যেতেন।
অবশেষে, ৪৫ বছর বয়সে তিনি এমন একজন ডাক্তারের সাক্ষাৎ পান যিনি তার সমস্যার গভীরে যেতে রাজি হন। ডাক্তার জানান, তার ঘুমের সমস্যার মূল কারণ হলো নাকের ভেতরের কিছু জটিলতা, যা তিনি ছোটবেলায় ব্রেস পরার কারণে হয়েছিল।
কোর্টনির এই দুঃসহ অভিজ্ঞতা আমাদের দেশের অনেক নারীর কথাই মনে করিয়ে দেয়। আমাদের সমাজে, অনেক সময় মহিলাদের স্বাস্থ্য সমস্যাকে গুরুত্ব দেওয়া হয় না।
তাদের অভিযোগকে মানসিক দুর্বলতা বা অতি সংবেদনশীলতা হিসেবে দেখা হয়। এই মানসিকতার কারণে অনেক নারী তাদের স্বাস্থ্য বিষয়ক সমস্যাগুলো নিয়ে সঠিক চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হন।
কোর্টনির ক্ষেত্রেও তাই হয়েছিল। বহু বছর ধরে তিনি বিভিন্ন ডাক্তারের কাছে গিয়েছেন, কিন্তু কেউই তার সমস্যার আসল কারণটি খুঁজে বের করতে পারেননি।
ঘুমের অভাবে তিনি শারীরিক ও মানসিক দিক থেকে দুর্বল হয়ে পড়েন। দিনের বেলায় কাজে মনোযোগ দিতে পারতেন না, সবসময় ক্লান্ত থাকতেন।
এমনকি, তিনি আত্মহত্যার চিন্তাও করেছিলেন।
অবশেষে, একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শে তিনি অস্ত্রোপচার করান। অস্ত্রোপচারের পর তার শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক হয় এবং ধীরে ধীরে ঘুমের সমস্যাও কমে আসে।
তিনি এখন আগের চেয়ে অনেক ভালো আছেন।
এই ঘটনা থেকে আমরা বুঝতে পারি, স্বাস্থ্য বিষয়ক সমস্যা সমাধানে সঠিক রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার গুরুত্ব কতখানি। বিশেষ করে, নারীদের স্বাস্থ্য বিষয়ক সমস্যাগুলো সমাধানে আরও বেশি মনোযোগী হওয়া প্রয়োজন।
চিকিৎসা বিজ্ঞান এখন অনেক উন্নত হয়েছে। ঘুমের সমস্যা সমাধানে বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা পদ্ধতি রয়েছে।
তাই, ঘুমের সমস্যা হলে দ্রুত একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত। এছাড়াও, জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন এনেও ঘুমের গুণগত মান বৃদ্ধি করা যেতে পারে।
যেমন – নিয়মিত ব্যায়াম করা, সঠিক খাদ্যাভ্যাস মেনে চলা, এবং ঘুমের আগে ক্যাফিন ও অ্যালকোহল গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকা।
কোর্টনির গল্প আমাদের স্বাস্থ্য বিষয়ক সচেতনতা বাড়াতে সাহায্য করে। আসুন, আমরা সবাই আমাদের স্বাস্থ্য সম্পর্কে আরও সচেতন হই এবং প্রয়োজনে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিই।
তথ্য সূত্র: The Guardian