যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার সামরিক শক্তি আরও বাড়াতে ব্যাপক সেনা সমাবেশের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সম্প্রতি এক ডিক্রি জারি করেছেন, যার মাধ্যমে আগামী ১৫ই জুলাই পর্যন্ত ১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সী ১ লক্ষ ৬০ হাজার পুরুষকে বাধ্যতামূলকভাবে সামরিক বাহিনীতে যোগ দিতে হবে।
এটি গত কয়েক বছরের মধ্যে রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর সবচেয়ে বড় নিয়োগ অভিযানগুলোর মধ্যে অন্যতম।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে রাশিয়ার এই পদক্ষেপ বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। গত বছরের বসন্তকালের তুলনায় এবার ১০ হাজার বেশি এবং তিন বছর আগের তুলনায় ১৫ হাজারের বেশি সেনা সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।
রাশিয়ার সরকারি সংবাদ সংস্থা তাস (TASS)-এর তথ্য অনুযায়ী, মূলত সশস্ত্র বাহিনীর আকার বৃদ্ধি করতেই পুতিনের এই সিদ্ধান্ত। জানা গেছে তিন বছর আগে রাশিয়ার সামরিক বাহিনীতে যেখানে ১০ লক্ষ সেনা ছিল, বর্তমানে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৫ লাখে।
এই নিয়োগ অভিযান এমন এক সময়ে নেওয়া হচ্ছে, যখন ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়া বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। বিশেষ করে, ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে রুশ সেনাদের অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকলেও, কিয়েভের প্রতিরোধের মুখে তারা উল্লেখযোগ্য বাধার সম্মুখীন হচ্ছে।
এছাড়া, রুশ সেনাদের বিরুদ্ধে লড়তে উত্তর কোরিয়ার সেনাদের সহায়তা নিচ্ছে রাশিয়া।
অন্যদিকে, বিভিন্ন সূত্রে জানা যাচ্ছে, এই বাধ্যতামূলক নিয়োগের আওতায় আসা অনেককে যথাযথ প্রশিক্ষণ ছাড়াই সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হচ্ছে। যদিও সরকারিভাবে জানানো হয়েছে, বাধ্যতামূলকভাবে নিয়োগ পাওয়া সেনাদের ইউক্রেনে পাঠানো হবে না।
তবে এমন খবরও পাওয়া যাচ্ছে যে, অনেককে চুক্তি করতে বাধ্য করা হচ্ছে, যার ফলস্বরূপ তাদের ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে, যুক্তরাষ্ট্র এবং রাশিয়ার মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনারও সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। সম্প্রতি জানা গেছে, শীর্ষস্থানীয় রুশ আলোচক কিরিল দিমিত্রিভ ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে আলোচনার জন্য ওয়াশিংটনে যেতে পারেন।
তার এই সফর ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণের পর কোনো শীর্ষ রুশ কর্মকর্তার প্রথম যুক্তরাষ্ট্র সফর হতে যাচ্ছে। এই আলোচনার মাধ্যমে দেশ দুটির মধ্যে সম্পর্ক উষ্ণ হওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সম্প্রতি সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। একইসঙ্গে, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারসহ বেশ কিছু শর্ত জুড়ে দিয়েছেন।
সবমিলিয়ে, ইউক্রেন যুদ্ধ দ্রুত বন্ধের সম্ভাবনা এখনও পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে না।
তথ্য সূত্র: সিএনএন