ডাইনোসরদের পায়ের ছাপ: স্কটল্যান্ডের এক প্রাচীন জলাশয়ে মাংসাশী ও তৃণভোজী প্রাণীর আনাগোনা।
স্কটল্যান্ডের এক প্রত্যন্ত অঞ্চলে, আজ থেকে প্রায় ১৬ কোটি ৭০ লক্ষ বছর আগে, মধ্য জুরাসিক যুগে বাস করা ডাইনোসরদের পায়ের ছাপ খুঁজে পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। এই আবিষ্কারের ফলে জানা গেছে, মাংসাশী এবং তৃণভোজী উভয় ধরনের ডাইনোসর একই জলাশয়ে জল পান করতে আসত।
সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণায় এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
এডিনবারা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক টোন ব্লেকসলি-র নেতৃত্বে স্কাই দ্বীপের ট্রোটেরনিশ উপদ্বীপ-এ ১৩১টি পায়ের ছাপ চিহ্নিত করা হয়েছে।
বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই পায়ের ছাপগুলো ডাইনোসরদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ কিছু দিক তুলে ধরে। বিশেষ করে, কিভাবে তারা একসাথে একটি স্থানে আসত, তা বোঝা যাচ্ছে।
গবেষণা অনুযায়ী, সেসময় এখানকার জলবায়ু ছিল উষ্ণ ও আর্দ্র, অনেকটা উপ-ক্রান্তীয় অঞ্চলের মতো। ব্লেকসলি জানান, তাঁরা প্রথমে ২০১৯ সালে তিনটি পায়ের ছাপ খুঁজে পান।
এরপর ড্রোন ব্যবহার করে ছবি তোলার মাধ্যমে ডিজিটাল থ্রিডি মডেল তৈরি করে বাকি পায়ের ছাপগুলো চিহ্নিত করেন।
আশ্চর্যজনকভাবে, এই পায়ের ছাপগুলি এতটাই স্পষ্টভাবে সংরক্ষিত ছিল যে, প্রথমে সেগুলোকে মাছের বিশ্রাম নেওয়ার স্থান হিসেবে ভুল করা হয়েছিল।
বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, নরম বালির একটি পাতলা স্তরের নিচে ছিল শক্ত কাদামাটির স্তর। এই কারণে পায়ের গভীরতা কম ছিল।
গবেষকরা জানিয়েছেন, তৃণভোজী সরোপড-রা সম্ভবত ঘণ্টায় প্রায় ২.৫ কিলোমিটার বেগে হেঁটে চলত। এরা গাছের উঁচু ডালে থাকা পাতা খেত।
অন্যদিকে, মাংসাশী মেগালোসর-রা ঘণ্টায় প্রায় ৮ কিলোমিটার বেগে জলাশয়ের আশেপাশে ঘুরে বেড়াত শিকারের খোঁজে।
ব্লেকসলি আরও জানান, যদিও ডাইনোসরগুলো একই সময়ে ওই অঞ্চলে ছিল, তবে পায়ের ছাপ দেখে মনে হয় না তারা একে অপরের সাথে কোনো সংঘাত বা মিথস্ক্রিয়ায় লিপ্ত হয়েছিল।
কারণ, মাংসাশী ডাইনোসর তৃণভোজী ডাইনোসরদের কাছাকাছি পেলে তাদের আক্রমণের সম্ভাবনা থাকত।
ব্লেকসলি বর্তমানেও ওই অঞ্চলে কাজ করছেন এবং নতুন পায়ের ছাপ আবিষ্কারের চেষ্টা চালাচ্ছেন।
এই গবেষণাটি মধ্য জুরাসিক যুগের ডাইনোসরদের জীবনযাত্রা সম্পর্কে মূল্যবান তথ্য সরবরাহ করে।
স্কটল্যান্ডের এই আবিষ্কার আমাদের জানা পৃথিবীর ইতিহাসে ডাইনোসরদের বিচরণ সম্পর্কে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
তথ্য সূত্র: সিএনএন