লন্ডনের বিখ্যাত টেট মডার্ন জাদুঘরে শিল্পী জোয়ান মিচেলের একটি গুরুত্বপূর্ণ চিত্রকর্ম দান করা হয়েছে। এই দানটি গত অর্ধ-শতকের মধ্যে জাদুঘরের জন্য আসা সবচেয়ে বড় অনুদান।
বিশাল আকারের এই চিত্রকর্মটি তৈরি হয়েছে আমেরিকান অ্যাবস্ট্রাক্ট এক্সপ্রেশনিস্ট শিল্পী জোয়ান মিচেলের হাতে, যার নাম তিনি রেখেছিলেন তাঁর জার্মান শেফার্ড কুকুরের নামে – ‘ইভা’।
ছয় মিটার লম্বা এই চিত্রকর্মটি তৈরি হয়েছিল ১৯৭৩ সালে। মায়ামি’র বিলিওনিয়ার রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী জর্জ এম পেরেজ এবং তাঁর স্ত্রী ডার্লিন এই অমূল্য কাজটি ব্রিটেনের জাতীয় সংগ্রহশালায় দান করেছেন।
এক সাক্ষাৎকারে তাঁরা জানান, টেট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দুই বছর ধরে আলোচনার পর তাঁরা এই কাজটি লন্ডনের এই জাদুঘরে দিতে রাজি হন।
টেট মডার্নের পরিচালক মারিয়া বালশ জানিয়েছেন, ১৯৬৯ সালে মার্ক রথকোর বিশাল আকারের নয়টি চিত্রকর্মের পর এটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দান।
যদিও চিত্রকর্মটির মূল্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি, তবে জানা যায়, মিচেলের একটি ছোট কাজ ২০২৩ সালে প্রায় ২৯ মিলিয়ন ডলারে বিক্রি হয়েছিল।
পেরেজ এই চিত্রকর্মটিকে ‘অমূল্য’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
এই চিত্রকর্মটি জাদুঘরের রথকো কক্ষের পাশে স্থাপন করা হবে, যেখানে তাঁর পাঁচটি বিশাল চিত্রকর্ম প্রদর্শিত হয়।
পেরেজের মতে, এই দুটি শিল্পীর কাজ একসাথে “একটি অসাধারণ জুটি” তৈরি করবে এবং তারা যেন “একে অপরের সঙ্গে কথা বলে”।
পরিচালক মারিয়া বালশ আরও জানান, মিচেলের মতো অনেক নারী শিল্পীর কাজ তাঁদের জীবদ্দশায় সেভাবে মূল্যায়িত হয়নি।
টেট কর্তৃপক্ষও আগে তাঁর বেশি কাজ সংগ্রহ করতে পারেনি। কারণ, যখন তাঁর কাজগুলো সহজলভ্য ছিল, তখন তা কেনার মতো পর্যাপ্ত অর্থ তাদের কাছে ছিল না।
এই প্রসঙ্গে বালশ বলেন, “এই অনুদান ব্রিটিশ জাতীয় সংগ্রহশালাকে সম্পূর্ণরূপে পরিবর্তন করে দিয়েছে। এটি কেবল একটি শূন্যস্থান পূরণ করছে না, বরং সেই সময়ের কাজের একটি নতুন প্রতিনিধিত্ব তৈরি করছে।
এই ধরনের বিশাল আকারের সংগ্রহ সম্ভব হয়েছে “পরোপকারী দাতাদের অসাধারণ উদারতার” কারণে।
টেটের প্রায় ৩০ শতাংশ অর্থ আসে সরকারি অনুদান থেকে, তবে মহামারীর পরবর্তী আর্থিক সংকটের কারণে তারা এখনো সমস্যায় জর্জরিত এবং সম্প্রতি তাদের তহবিল ঘাটতি মেটাতে কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দিয়েছে।
পেরেজ দম্পতি এর আগে ঘানার ভাস্কর এল আনাৎসুইয়ের একটি শিল্পকর্ম দেখতে ২০২৩ সালে টেট মডার্নের টার্বাইন হলে গিয়েছিলেন।
মারিয়া বালশ জানান, সেই সময় থেকেই তাঁদের সঙ্গে এই গুরুত্বপূর্ণ কাজটি দান করার বিষয়ে আলোচনা চলছিল।
বালশ আরও বলেন, “আমি আপনাকে বলতে পারি যে এই গুরুত্বপূর্ণ কাজটি দানের বিষয়ে আলোচনায় লন্ডনে আসা কয়েক মিলিয়ন মানুষের কথা বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আপনি ব্রিটিশ জনগণ এবং সারা বিশ্ব থেকে আসা আমাদের দর্শকদের জন্য সত্যিই অসাধারণ কিছু করেছেন এবং আমি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ।”
পেরেজ আরও বলেন, “আমরা সবসময়ই চেয়েছি শিল্পকর্মগুলো যেন সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছে।
কারণ আমি মনে করি শিল্প মানুষের জীবন পরিবর্তন করে। এটি আমাদের জীবনকে আরও উন্নত করে। শিল্প আমাদের জগৎকে ভিন্নভাবে বুঝতে সাহায্য করে এবং শিল্পীর সৃজনশীল প্রক্রিয়ার অংশ করে তোলে।
পেরেজ জানান, তাঁর মনে হয় চিত্রকর্মটির সঙ্গে ল্যান্ডস্কেপের যোগসূত্র বেশি, কুকুরের নয়।
তাঁর মতে, এটি আসলে শিল্পীর মেজাজ এবং প্রকৃতির প্রতিচ্ছবি।
আর্জেন্টিনায় জন্ম নেওয়া পেরেজ কিউবার উদ্বাস্তু পরিবারের সন্তান।
পরে তিনি মিয়ামিতে চলে আসেন এবং সেখানে অ্যাপার্টমেন্ট তৈরি করে বিশাল খ্যাতি অর্জন করেন।
একসময় তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পের বন্ধু ছিলেন। তবে তিনি ডেমোক্রেটিক পার্টির দীর্ঘদিনের সমর্থক ও তহবিল সংগ্রাহক।
ট্রাম্পের নীতির কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিত পেরেজ, তাঁর অভিবাসন নীতির তীব্র বিরোধিতা করেছেন।
পেইন্টিংয়ের পাশাপাশি এই দম্পতি টেটে আফ্রিকান শিল্পের জন্য একটি “বহু মিলিয়ন পাউন্ডের” অনুদান দিয়েছেন এবং তাঁদের সংগ্রহে থাকা আফ্রিকান ও ল্যাটিন আমেরিকান শিল্পীদের আরও কিছু কাজ দান করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
পেরেজ আশা করেন, তাঁদের এই অনুদান অন্যান্য ধনী ব্যক্তিদেরওart দানের জন্য উৎসাহিত করবে।
তথ্য সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান