লেসোথো: আফ্রিকার একটি ক্ষুদ্র দেশে ট্রাম্পের ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লেসোথোর ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন। আফ্রিকার এই ক্ষুদ্র দেশটি, যার জনসংখ্যা প্রায় ২০ লাখ, তাদের অর্থনীতির ওপর এটি মারাত্মক প্রভাব ফেলবে।
কোনো দেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের এটিই সর্বোচ্চ শুল্ক।
লেসোথোর অর্থনীতি মূলত তাদের রপ্তানির ওপর নির্ভরশীল, যার মধ্যে পোশাক এবং হীরার ব্যবসা উল্লেখযোগ্য। দেশটির মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রায় ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
লেসোথোর উৎপাদিত পণ্যের একটি বড় অংশ যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হয়। উদাহরণস্বরূপ, তারা লেভি’স জিন্সের মতো পোশাক সামগ্রী তৈরি করে এবং তা আমেরিকায় পাঠায়।
লেসোথোর ওপর শুল্ক আরোপের কারণ হিসেবে ট্রাম্প প্রশাসন জানায়, লেসোথো যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা পণ্যের ওপর ৯৯ শতাংশ শুল্ক বসায়। যদিও বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এর আসল কারণ হলো ‘আফ্রিকান গ্রোথ অ্যান্ড অপরচুনিটি অ্যাক্ট’ (AGOA) চুক্তি বাতিল করার একটি পদক্ষেপ।
এই চুক্তির মাধ্যমে আফ্রিকার দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে অগ্রাধিকারমূলক প্রবেশাধিকার পেত।
অর্থনীতিবিদরা আশঙ্কা করছেন, এই শুল্ক লেসোথোর পোশাক শিল্পের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনবে। এই শিল্প দেশটির বৃহত্তম বেসরকারি নিয়োগকর্তা।
মাসুরুর একজন স্বতন্ত্র অর্থনৈতিক বিশ্লেষক থাবো ক্হেশি বলেন, “এই শুল্ক দেশটির বস্ত্র ও পোশাক শিল্পকে ধ্বংস করে দেবে।
লেসোথোর বৈদেশিক মন্ত্রী গত মাসে রয়টার্সকে জানান, এই শুল্ক এবং সাহায্য কমানোর ফলে দেশটির স্বাস্থ্যখাতেও প্রভাব পড়ছে, কারণ তারা এই সাহায্যের উপর নির্ভরশীল ছিল। উল্লেখ্য, লেসোথোর জনগণের মধ্যে এইচআইভি/এইডস সংক্রমণের হার অনেক বেশি।
এই সিদ্ধান্তের ফলে শুধু লেসোথোই ক্ষতিগ্রস্ত হবে না, বরং এটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন উদ্বেগের সৃষ্টি করবে। উন্নয়নশীল দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য সম্পর্ক কেমন হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
তথ্য সূত্র: আল জাজিরা