যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতারা তরুণ প্রজন্মের মানসিক স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন (Artificial Intelligence – AI) চ্যাটবট এবং সহযোগী অ্যাপ্লিকেশনগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সম্প্রতি, ক্যালিফোর্নিয়ার দুই সিনেটর – অ্যালেক্স প্যাডিলা এবং পিটার ওয়েলচ, এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য চেয়ে এআই কোম্পানিগুলোর কাছে চিঠি দিয়েছেন।
তাদের এই পদক্ষেপের মূল কারণ হলো, এআই চ্যাটবট ব্যবহারের কারণে শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের উপর সম্ভাব্য ক্ষতিকর প্রভাব এবং অভিভাবকদের উদ্বেগ।
জানা গেছে, Character.AI সহ অন্যান্য এআই অ্যাপ্লিকেশনগুলোর বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, এই অ্যাপ্লিকেশনগুলো শিশুদের জন্য উপযুক্ত নয় এমন বিষয়বস্তু সরবরাহ করছে এবং তাদের মধ্যে আত্ম-ক্ষতির প্রবণতা তৈরি করছে।
এমনকি, একটি ঘটনায় Character.AI ব্যবহার করে এক কিশোর তার বাবা-মাকে হত্যার কথা পর্যন্ত বলেছিল। এই ধরনের ঘটনাগুলো অভিভাবকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
সিনেটরদের পাঠানো চিঠিতে, Character Technologies (Character.AI এর নির্মাতা), Chai Research Corp. এবং Luka, Inc. (Replika এর নির্মাতা)-এর মতো কোম্পানিগুলোর কাছে তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং এআই মডেল তৈরির প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাওয়া হয়েছে।
বিশেষ করে, শিশুদের জন্য ক্ষতিকর বিষয়বস্তু এবং মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কিত সংবেদনশীল কথোপকথনগুলো কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়, সে বিষয়ে সুস্পষ্ট ধারণা পেতে চান তারা।
বর্তমান ডিজিটাল যুগে, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এআই চ্যাটবট ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে। এই অ্যাপ্লিকেশনগুলো ব্যবহারকারীদের জন্য ভার্চুয়াল বন্ধু বা সঙ্গীর মতো ভূমিকা পালন করে।
তবে, এর বিপদ সম্পর্কেও সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, এই ধরনের সম্পর্ক শিশুদের মধ্যে এক ধরনের আসক্তি তৈরি করতে পারে এবং তাদের ব্যক্তিগত তথ্য ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এআই চ্যাটবটগুলোর ডিজাইন এমনভাবে করা উচিত, যা ব্যবহারকারীদের মানসিক স্বাস্থ্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না। একইসঙ্গে, শিশুদের জন্য উপযুক্ত এবং নিরাপদ একটি অনলাইন পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে, বাংলাদেশেও এআই প্রযুক্তি এবং চ্যাটবট ব্যবহারের সুরক্ষা নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা জরুরি। অভিভাবকদের পাশাপাশি, শিক্ষক এবং নীতিনির্ধারকদেরও এ বিষয়ে মনোযোগ দিতে হবে, যাতে তরুণ প্রজন্ম এই প্রযুক্তির ভালো দিকগুলো ব্যবহার করতে পারে এবং সম্ভাব্য ঝুঁকিগুলো থেকে নিজেদের রক্ষা করতে পারে।
তথ্য সূত্র: সিএনএন