মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপের যে প্রক্রিয়া নেওয়া হয়েছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, শুল্ক নির্ধারণের ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসন যে পদ্ধতি ব্যবহার করেছে, তা ছিলো প্রশ্নবিদ্ধ।
এই পদক্ষেপের ফলে বিশ্বজুড়ে সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
জানা গেছে, ট্রাম্প প্রশাসন ‘পাল্টা শুল্ক’ আরোপের কথা বললেও, তারা আসলে প্রচলিত পদ্ধতির বদলে একটি সরল হিসাব ব্যবহার করেছে। সাধারণত, কোনো দেশের পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে অন্য দেশগুলোও একই হারে শুল্ক বসায়।
কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসন সেই পথে হাঁটে নি। তারা একটি সহজ হিসাব ব্যবহার করেছে: একটি দেশের বাণিজ্য ঘাটতিকে সেই দেশে যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি দিয়ে ভাগ করে, তার অর্ধেক ফলকে শুল্কের হার হিসেবে ধরে নেওয়া হয়েছে।
উদাহরণস্বরূপ, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতির হিসাব ধরা যাক। ২০২৪ সালে, চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ২৯ হাজার ৫৪০ কোটি মার্কিন ডলার।
একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র চীন থেকে ৪৩ হাজার ৯৯০ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করেছে। এই হিসাব অনুযায়ী, চীনের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ছিল দেশটির মোট রপ্তানির ৬৭ শতাংশের সমান।
ট্রাম্প প্রশাসন এটিকে ‘যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আরোপিত শুল্ক’ হিসেবে চিহ্নিত করে।
তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, এই হিসাবের সঙ্গে বাস্তবতার মিল নেই। জোনস ট্রেডিংয়ের প্রধান বাজার কৌশলবিদ মাইক ও’রোর্কের মতে, এই পদ্ধতিতে প্রকৃত শুল্কের কোনো হিসাব ব্যবহার করা হয়নি।
বরং, যে দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি বেশি, তাদেরকেই মূলত লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এই ধরনের শুল্কনীতি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল দেশগুলোর জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে। কারণ, এর ফলে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন বহুজাতিক কোম্পানির মুনাফায় বড় ধরনের ধাক্কা লাগতে পারে।
সরবরাহ শৃঙ্খলেও দেখা দিতে পারে জটিলতা।
যদিও এই মুহূর্তে বাংলাদেশের ওপর এর সরাসরি প্রভাব সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না, তবে বিশ্ব অর্থনীতির এই ধরনের পরিবর্তনে উন্নয়নশীল দেশগুলোতেও প্রভাব পড়তে পারে।
তথ্য সূত্র: সিএনএন