যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন শুল্ক ঘোষণার জেরে বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক মন্দা (recession) দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর ফলস্বরূপ, মার্কিন শেয়ার বাজারে বড় ধরনের দরপতন হয়েছে এবং ডলারের মান কমে গেছে।
বিনিয়োগকারীরা এখন নিরাপদ বিনিয়োগের দিকে ঝুঁকছেন, যার কারণে সোনার দাম বেড়েছে এবং সরকারি বন্ডের চাহিদা বেড়েছে।
বৃহস্পতিবার (যেদিন এই খবর আসে) মার্কিন শেয়ার বাজার বেশ অস্থির ছিল। ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন শুল্ক ঘোষণার পর Dow Jones Industrial Average সূচক এক ধাক্কায় ১,২০০ পয়েন্ট বা প্রায় ২.৮৭ শতাংশ কমে যায়।
S&P 500 সূচক ৩.৫ শতাংশ এবং প্রযুক্তি নির্ভর Nasdaq সূচক ৪.২ শতাংশ পতনের সঙ্গে দিন শেষ করে। বাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০০৮ সালের অর্থনৈতিক মন্দার পর এটাই সবচেয়ে বড় দরপতন। শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশের শেয়ার বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের কারণে যুক্তরাষ্ট্র এবং বিশ্ব অর্থনীতি উভয়ই ২০২৩ সালে মন্দার কবলে পড়তে পারে। এই পরিস্থিতিতে, বিনিয়োগকারীরা তাদের অর্থ নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে শুরু করেছেন।
ফলে সোনার দাম দ্রুত বাড়ছে। সোনার দাম বর্তমানে প্রতি আউন্সে ৩,১৬০ মার্কিন ডলারের উপরে উঠেছে। একই সাথে, ট্রেজারি বন্ডের ফলনও উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগের আরেকটি দিক নির্দেশ করে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, ট্রাম্পের এই শুল্ক নীতি যদি বহাল থাকে, তাহলে এর সরাসরি প্রভাব পড়বে মূল্যস্ফীতিতে। জিপি মরগান (JPMorgan) এর বিশ্লেষকদের মতে, এই শুল্কের কারণে আমেরিকানদের ওপর বছরে প্রায় ৬৬০ বিলিয়ন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় আনুমানিক ৭২ লক্ষ কোটি টাকার বেশি) করের বোঝা চাপবে।
এর ফলে, বাজারে পণ্যের দাম আরও বাড়বে এবং মুদ্রাস্ফীতি ২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে, বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের সংগঠন ‘বিজনেস রাউন্ডটেবিল’ সতর্ক করে বলেছে, ট্রাম্পের এই শুল্ক নীতি তাদের ব্যবসার জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
তারা মনে করেন, ১০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ফলে মার্কিন উৎপাদক, শ্রমিক, পরিবার এবং রপ্তানিকারকদের ক্ষতি হবে।
ফিস রেটিং(Fitch Ratings)-এর মতে, ট্রাম্পের আগ্রাসী শুল্ক পদক্ষেপের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের হার ১৯১০ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। বর্তমানে এই হার ২.৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ২২ শতাংশে দাঁড়াতে পারে।
ফিস রেটিংয়ের প্রধান অর্থনীতিবিদ ওলু সোনোলা বলেছেন, এই শুল্ক হার বেশি দিন বহাল থাকলে অনেক দেশের অর্থনীতিতে মন্দা দেখা দিতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও কিছু প্রভাব পড়তে পারে। বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দা দেখা দিলে, বাংলাদেশের রপ্তানি আয় কমে যেতে পারে।
এছাড়া, রেমিট্যান্স এবং বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই, এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের নীতিনির্ধারক এবং ব্যবসায়ীদের জন্য বিশ্ব বাজারের পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা জরুরি।
তথ্য সূত্র: সিএনএন