শরীরচর্চা করার আগে, নাকি পরে, নাকি শরীরচর্চার সময় খাবার খাওয়া উচিত? অনেকের মনেই এই প্রশ্নগুলো ঘোরাফেরা করে। শরীরচর্চা বিষয়ক কিছু ভুল ধারণা রয়েছে, যা প্রায়ই শোনা যায়।
যেমন, খালি পেটে ব্যায়াম করলে বেশি ফ্যাট কমে। কিন্তু টরন্টোর একজন পুষ্টিবিদ অ্যাবি ল্যাঙ্গার (Abby Langer) বলছেন, এই ধারণাটি সঠিক নয়। তাঁর মতে, উপবাস করে ব্যায়াম করলে শরীরের উন্নতি হয় বা বেশি ক্যালোরি পোড়ে, এমনটা গবেষণায় প্রমাণিত হয়নি।
তাহলে কি ব্যায়ামের আগে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন ও কার্বোহাইড্রেট (শর্করা) গ্রহণ করা উচিত? ল্যাঙ্গার এর উত্তরে না বলেছেন। আসলে ব্যায়ামের আগে, পরে বা এমনকি ব্যায়ামের সময় খাবার খাওয়ার সঠিক সময় এবং পরিমাণ জানাটা জরুরি। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কখন খাচ্ছেন তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হল আপনি কি খাচ্ছেন।
ব্যায়ামের আগে খাবার খাওয়ার প্রয়োজনীয়তা কি? খাবার ক্যালোরি আকারে শরীরে শক্তি যোগায়, যা ব্যায়ামের জন্য জরুরি। কিন্তু ব্যায়ামের আগে খুব বেশি খাবার খেলে তা সমস্যা তৈরি করতে পারে। ল্যাঙ্গার জানাচ্ছেন, ব্যায়াম করার সময় শরীরের রক্ত পাকস্থলীসহ অন্যান্য অঙ্গ থেকে পেশিতে প্রবাহিত হয়। ফলে ভরা পেটে ব্যায়াম করলে হজম প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে। এতে পেট ব্যথা বা অসুস্থ লাগতে পারে।
বিশেষ করে ফ্যাট, প্রোটিন বা ফাইবারযুক্ত খাবার, যা কার্বোহাইড্রেটের চেয়ে ধীরে হজম হয়, তা খাওয়ার ২-৩ ঘণ্টা পর ব্যায়াম করা ভালো। উদাহরণস্বরূপ, খেলাধুলার এক ঘণ্টা আগে ভারী খাবার খাওয়া উচিত নয়।
যদি সকালে ঘুম থেকে উঠেই ব্যায়াম করেন, তাহলে ব্যায়ামের আগে কলা ও চিনাবাদামের মাখন অথবা দই ও ফল দিয়ে তৈরি হালকা খাবার খেতে পারেন। এটি ব্যায়ামের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি যোগাবে। এরপর ব্যায়ামের পরে ভারী খাবার গ্রহণ করা যেতে পারে।
ব্যায়ামের পর কখন এবং কি ধরনের খাবার খাওয়া উচিত? ব্যায়ামের পর প্রোটিন গ্রহণ করা ভালো। কারণ, তখন এটি সহজে হজম হয়। কলোরাডো স্প্রিংসের একজন ফিজিওলজিস্ট, ক্রিস্টা অস্টিন (Krista Austin) বলেন, ব্যায়ামের এক ঘণ্টা বা তার বেশি সময় পর খাবার খাওয়ার সুযোগ থাকলে, তার আগে একটি উচ্চ প্রোটিনযুক্ত স্ন্যাকস খাওয়া যেতে পারে। এর কারণ হলো, বেশি ক্ষুধার্ত থাকলে মানুষ ভুল খাবার বেছে নেয়।
অনেকে মনে করেন, ব্যায়াম শেষ করার সঙ্গে সঙ্গেই প্রোটিন শেক (protein shake) পান করলে পেশি দ্রুত বাড়ে। ল্যাঙ্গার এর সঙ্গে একমত নন। ব্যায়ামের পর পেশি পুনরুদ্ধারের জন্য শরীরের একটি নির্দিষ্ট সময় থাকে, যাকে অনেকে ‘অ্যানাবলিক উইন্ডো’ (anabolic window) বলে থাকেন। তবে সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে এই সময়সীমা অনেক বেশি। তাই পুষ্টির সময়জ্ঞান (nutrient timing) এর চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রত্যেকবার খাবার সময় প্রোটিন গ্রহণ করা। পেশি পুনরুদ্ধারের জন্য শরীরে প্রোটিনের মতো অ্যামিনো অ্যাসিডের (amino acids) সরবরাহ প্রয়োজন। তাই প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় এই বিষয়ে নজর রাখা জরুরি।
ব্যায়ামের সময় কি খাবার খাওয়া উচিত? সাধারণত, যারা সারাদিন পর্যাপ্ত খাবার খান, তাদের ব্যায়ামের সময় অতিরিক্ত খাবারের প্রয়োজন হয় না। ল্যাঙ্গার ও অস্টিনের মতে, এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে তীব্র ব্যায়াম করলে, মাঝে মাঝে কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া যেতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, ম্যারাথনের মতো দীর্ঘ সময় ধরে ব্যায়াম করলে, খাবারের বিরতি রাখা প্রয়োজন।
অস্টিন আরও বলেন, কখন খাবেন তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হল কি খাচ্ছেন এবং কতটা খাচ্ছেন সেদিকে মনোযোগ দেওয়া। স্বাস্থ্যকর খাবারের জন্য তিনি খাদ্য ও পুষ্টি বিষয়ক একটি সুষম তালিকা অনুসরণ করার পরামর্শ দেন।
মনে রাখতে হবে, পুষ্টি একটি সহজ বিষয়। সঠিক খাদ্যাভ্যাস তৈরি করতে পারলে ব্যায়ামের উপকারিতা পাওয়া সম্ভব।
তথ্য সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস