মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়াকে এড়িয়ে যাওয়া তেলের ট্যাংকারের বহর প্রতিরোধের জন্য জি-৭ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। কানাডা জি-৭ এর বর্তমান সভাপতি হিসেবে এই প্রস্তাবটি উত্থাপন করেছিল। তবে, যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তির কারণে প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হয়নি।
খবরে প্রকাশ, রাশিয়া ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করার পর দেশটির উপর যে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাগুলো আরোপ করা হয়েছে, সেগুলোকে ফাঁকি দিতে রাশিয়ার পুরনো তেলের ট্যাংকারগুলো “শ্যাডো ফ্লিট” নামে পরিচিতি লাভ করেছে। কানাডা চেয়েছিল এই ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর ওপর নজরদারি করার জন্য একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করা হোক। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র তাতে রাজি হয়নি।
জি-৭ দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের আসন্ন বৈঠকের আগে, কানাডা এই প্রস্তাবটি দেয়। তবে, যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তির কারণে প্রস্তাবটি এখন পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি। ব্লুমবার্গ নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র শুধু এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেই ক্ষান্ত হয়নি, বরং তারা জি-৭ এর যৌথ বিবৃতিতে চীন সম্পর্কীত বিষয়গুলো আরও জোরালো করতে চাইছে, যেখানে রাশিয়ার বিষয়ে শব্দচয়ন দুর্বল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এমনকি, যুক্তরাষ্ট্র ‘ санкশনস’ শব্দটিও বাদ দিতে চেয়েছিল, যা রাশিয়ার যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতাকে ব্যাহত করতে পারে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের মিত্রদের জানিয়েছে যে, তারা বহুপাক্ষিক সংস্থায় তাদের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করছে, যে কারণে তারা কোনো নতুন উদ্যোগে অংশ নিতে পারছে না। তবে, ইউরোপীয় দেশগুলো বাল্টিক সাগরে রাশিয়ার তেল রপ্তানিকারক ট্যাংকার জব্দ করার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করছে। তারা আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে পরিবেশগত বা জলদস্যুতার কারণ দেখিয়ে জাহাজগুলো নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে।
জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের চূড়ান্ত ঘোষণার আগে এখনো আলোচনার সুযোগ রয়েছে এবং এতে পরিবর্তন আসার সম্ভাবনাও রয়েছে।
তথ্য সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান