প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘আলফ্রেড’-এর আঘাতে বিপর্যস্ত অস্ট্রেলিয়ার পূর্বাঞ্চল। ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার কারণে কুইন্সল্যান্ড এবং নিউ সাউথ ওয়েলসে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এরই মধ্যে একজন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন এক ডজনের বেশি সেনা সদস্য। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে কয়েক লক্ষ মানুষ।
রবিবার (৯ মার্চ, ২০২৪) পাওয়া খবর অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড় ‘আলফ্রেড’ কুইন্সল্যান্ডের উপকূলীয় অঞ্চলে তাণ্ডব চালিয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সেখানে ব্যাপক বৃষ্টিপাত হয়েছে, যার ফলে দেখা দিয়েছে আকস্মিক বন্যা। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে কুইন্সল্যান্ডের গোল্ড কোস্ট অন্যতম। সেখানকার প্রায় ৩ লক্ষ ১৬ হাজারেরও বেশি মানুষ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ কুইন্সল্যান্ড এবং নিউ সাউথ ওয়েলসের পরিস্থিতিকে ‘অত্যন্ত গুরুতর’ বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি জানান, আগামী কয়েক দিন ভারী বৃষ্টি, শক্তিশালী বাতাস এবং সমুদ্র উপকূলের কাছাকাছি এলাকায় বড় ধরনের ঢেউয়ের সম্ভবনা রয়েছে।
কুইন্সল্যান্ডের হার্ভে বে-তে মাত্র ছয় ঘণ্টায় ২৩-০ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। বন্যার কারণে অনেক ঘরবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে গেছে বলে জানা গেছে। জরুরি বিভাগের কর্মীরা সেখানকার ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের উদ্ধারে কাজ করছেন। আবহাওয়া ব্যুরো জানিয়েছে, ব্রিসবেন, ইপসউইচ, সানশাইন কোস্ট এবং জিম্পি সহ কুইন্সল্যান্ডের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হতে পারে। এছাড়াও, ঘণ্টায় প্রায় ৯০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বয়ে যেতে পারে।
দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে কুইন্সল্যান্ডে প্রায় ১০০০ স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সোমবার স্কুলগুলো খোলা হবে কিনা, সে বিষয়ে পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। অন্যদিকে, নিউ সাউথ ওয়েলসের সকল সরকারি স্কুল সোমবারও বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শনিবার, নিউ সাউথ ওয়েলসের উত্তরাঞ্চলে বন্যায় ডুবে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া, লিসমোর শহরে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার জন্য যাওয়া ১৩ জন সেনা সদস্য সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ২ জনের অবস্থা গুরুতর। উল্লেখ্য, ১৯৭৪ সালের পর এই প্রথম এত শক্তিশালী কোনো ঘূর্ণিঝড় কুইন্সল্যান্ডের রাজধানী ব্রিসবেনের কাছাকাছি আঘাত হানল।
বাংলাদেশের জন্য এই খবরটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আমরাও ঘূর্ণিঝড়প্রবণ একটি দেশ। অস্ট্রেলিয়ার এই দুর্যোগ আমাদের প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিরুদ্ধে প্রস্তুতি এবং প্রতিরোধের প্রয়োজনীয়তা আরও একবার মনে করিয়ে দেয়।
তথ্য সূত্র: আল জাজিরা