আধুনিক জীবনের কোলাহল থেকে মুক্তি পেতে এক নারীর অরণ্যে আশ্রয় খোঁজার গল্প
বর্তমান সময়ে কর্মব্যস্ত জীবনে মানসিক শান্তির অভাব যেন একটি সাধারণ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এরকম পরিস্থিতিতে, এক তরুণী, যিনি জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে এসে দাঁড়িয়েছেন, তাঁর একাকীত্বের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে নতুন করে ভাবছেন।
লন্ডনের মতো একটি ব্যস্ত শহরে বসবাস করা, যেখানে জীবনযাত্রার উচ্চ খরচ এবং কাজের চাপ ছিল নিত্যদিনের সঙ্গী, তাঁর কাছে অসহনীয় হয়ে উঠেছিল। জীবন ধারণের জন্য নিরন্তর সংগ্রাম করতে করতে তিনি একসময় হতাশ হয়ে পড়েন। তাঁর মনে হয়েছিল, যেন এই শহরের যান্ত্রিক জীবনে তাঁর আত্মার মৃত্যু ঘটছে। এমন পরিস্থিতিতে তিনি তাঁর পরিবারের কাছে, অর্থাৎ বাবা-মায়ের কাছে ফিরে আসেন।
বর্তমানে, তিনি একটি ভালো বেতনের, তুলনামূলকভাবে সহজ একটি চাকরি করছেন, যা তাঁকে সঞ্চয় করতে সাহায্য করছে। প্রকৃতির কাছাকাছি থাকার সুযোগ এবং পরিবারের সঙ্গে কাটানো অতিরিক্ত সময় তাঁর ভালো লাগছে। কিন্তু এরই মধ্যে তিনি অনুভব করছেন এক গভীর শূন্যতা। তাঁর জীবন কোন দিকে যাচ্ছে, বা তিনি ভবিষ্যতে কেমন জীবন চান, সে বিষয়ে তাঁর কোনো সুস্পষ্ট ধারণা নেই।
তাঁর সবচেয়ে বড়ো আকাঙ্ক্ষা হল, একটি নির্জন অরণ্যে, যেখানে কোনো কোলাহল নেই, এমন একটি বাড়িতে সম্পূর্ণ একা বসবাস করা। যেখানে কোনো ফোন বা ইন্টারনেট-এর ঝামেলা থাকবে না। এই কল্পনায় তিনি নিজেকে সম্পূর্ণ শান্ত এবং নিরাপদ অনুভব করেন। তিনি দিনগুলি লেখালেখি, প্রকৃতির কাছাকাছি যাওয়া, বই পড়া এবং রান্না করার মতো প্রিয় কাজগুলোতে অতিবাহিত করতে চান।
এই বিষয়টি নিয়ে মনোবিদ ফিলিপা পেরির সঙ্গে আলোচনা করা হলে, তিনি জানান, ওই নারীর এই একাকীত্বের আকাঙ্ক্ষা সম্ভবত জীবনের চাপ থেকে পালানোর একটি উপায়। পেরির মতে, বর্তমানের ভালো দিকগুলো উপলব্ধি করার মাধ্যমে এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পাওয়া যেতে পারে। আমাদের উপলব্ধ কৃতজ্ঞতা ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও বর্তমানের উষ্ণতা ও সংযোগের অনুভূতি এনে দিতে পারে।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল আকাঙ্ক্ষার অভাব। অতিরিক্ত চাওয়া বা আকুলতা আমাদের অসন্তুষ্টির চক্রে আটকে রাখে। আকাঙ্ক্ষার অনুপস্থিতি হতাশাজনক না হয়ে বরং মুক্তিও দিতে পারে। একটি শান্তিপূর্ণ জীবনের স্বপ্ন দেখা খারাপ কিছু নয়, তবে সম্ভবত এর মাধ্যমে অন্য কিছু নির্দেশিত হচ্ছে। শান্তির অর্থ জীবন থেকে পালিয়ে যাওয়া নয়, বরং যেখানেই থাকুন না কেন, সেখানকার পরিস্থিতিকে গ্রহণ করার মানসিকতা তৈরি করা।
এই তরুণীর জীবনে বন্ধু বা ভালোবাসার মানুষের অভাব রয়েছে। সমাজ তাকে কেমন দেখতে চায়, সেই ধারণা থেকে বেরিয়ে এসে নিজের মতো করে জীবন গড়ার সুযোগ তৈরি করতে হবে। একাকীত্ব অনেক সময় অন্তর্মুখী মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় হতে পারে, তবে তাঁদেরও বন্ধু থাকে, ভালোবাসার সম্পর্ক থাকে। এই বিষয়টি উপলব্ধি করা দরকার।
সবশেষে, ফিলিপা পেরি মনে করেন, সম্ভবত মানুষের সঙ্গে সম্পর্কের ধারণা থেকেই এই তরুণীর মধ্যে একাকীত্বের বাসনা জেগেছে। তাঁর মতে, একাকীত্বের এই ধারণা জীবনের সম্পর্কগুলোকে আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ করে তুলতে পারে।
তথ্য সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান