মাইকেল অ্যাঞ্জেলো: এক কিংবদন্তীর ভাস্কর্য, ডেনমার্কে বিশেষ প্রদর্শনী।
বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিল্পী মাইকেল অ্যাঞ্জেলোর (১৪৭৫-১৫৬৪) শিল্পকর্ম নিয়ে ডেনমার্কের জাতীয় জাদুঘরে (Statens Museum for Kunst – SMK) শুরু হয়েছে এক অসাধারণ প্রদর্শনী। “মাইকেল অ্যাঞ্জেলো ইমপারফেক্ট” (Michelangelo Imperfect) শিরোনামের এই প্রদর্শনীতে শিল্পীর বহু বিখ্যাত ভাস্কর্যের প্রতিরূপ (replica) দেখা যাচ্ছে, যা দর্শকদের এক নতুন অভিজ্ঞতা দিচ্ছে।
আসল শিল্পকর্মগুলো ইতালি, ফ্রান্স সহ বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। এই প্রদর্শনী যেন সেই সব শিল্পকর্মকে একসাথে দেখার সুযোগ করে দিয়েছে।
এই প্রদর্শনীতে মূল আকর্ষণ হলো মাইকেল অ্যাঞ্জেলোর তৈরি করা বিভিন্ন ভাস্কর্যের উন্নতমানের প্রতিরূপ। মাদ্রিদ ভিত্তিক ফ্যাক্টাম আর্ট (Factum Arte) নামক একটি স্টুডিওর কারিগররা থ্রিডি প্রিন্টিং (3D printing) এবং অন্যান্য অত্যাধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে এই প্রতিরূপগুলো তৈরি করেছেন।
এর মধ্যে রয়েছে “ডেভিড”-এর (David) একটি ব্রোঞ্জ সংস্করণ, মেডিসি চ্যাপেলের চারটি বিখ্যাত প্রতিকৃতি এবং পোপ দ্বিতীয় জুলিয়াসের সমাধির কিছু অসমাপ্ত ভাস্কর্যের থ্রিডি প্রিন্টেড সংস্করণ।
প্রদর্শনীতে মূল শিল্পকর্মের পাশাপাশি শিল্পী মাইকেল অ্যাঞ্জেলোর কিছু আসল স্কেচ ও মডেলও (মাকেট) রয়েছে। এইগুলো দর্শকদের শিল্পীমনের গভীরতা উপলব্ধি করতে সাহায্য করে।
প্রদর্শনীটির কিউরেটর, ম্যাথিয়াস উইভেল (Matthias Wivel) এর মতে, “এই ধরনের প্রদর্শনী সাধারণত দেখা যায় না।”
ফ্যাক্টাম আর্টের কর্মীরা শুধু থ্রিডি প্রিন্টিং-এর উপর নির্ভর করেননি। তারা ছবি তোলার মাধ্যমে ত্রিমাত্রিক চিত্র (photogrammetry) এবং লিডার স্ক্যানিং (Lidar scanning) ব্যবহার করে আসল ভাস্কর্যের ডিজিটাল প্রতিরূপ তৈরি করেছেন।
এরপর সেগুলোর ছাঁচ তৈরি করে মার্বেল মিশ্রিত উপাদান দিয়ে প্রতিরূপগুলো তৈরি করা হয়েছে। তাদের প্রধান লক্ষ্য ছিল, দর্শকদের কাছে আসল শিল্পকর্মের মতোই দেখতে এমন কিছু উপস্থাপন করা।
আসল শিল্পকর্মের অভাব পূরণ করতে প্রতিরূপের ধারণা নতুন নয়। উনবিংশ শতাব্দীতে প্লাস্টারের তৈরি করা অনেক ভাস্কর্য বিভিন্ন জাদুঘরে রাখা হতো।
বর্তমানেও অনেক জায়গায় মাইকেল অ্যাঞ্জেলোর “ডেভিড”-এর প্লাস্টারের প্রতিরূপ দেখা যায়।
এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে দর্শকদের জন্য মাইকেল অ্যাঞ্জেলোর শিল্পকর্মগুলো নতুনভাবে উপলব্ধি করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। মূল শিল্পকর্মগুলো সাধারণত বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে।
কিছু ভাস্কর্য বুলেটপ্রুফ কাঁচের পেছনে, আবার কিছু ক্যাথেড্রালের উপরে স্থাপন করা হয়েছে। তাই সাধারণ মানুষের পক্ষে সেগুলোর কাছে যাওয়া কঠিন।
এই প্রদর্শনী সেই বাধা দূর করে দর্শকদের কাছাকাছি আসার সুযোগ করে দিয়েছে।
ফ্যাক্টাম আর্টের প্রতিষ্ঠাতা অ্যাডাম লো (Adam Lowe) জানিয়েছেন, তাদের তৈরি করা ডিজিটাল ডেটা সংরক্ষণ এবং শিল্পকর্মের রক্ষণাবেক্ষণে সাহায্য করবে।
উদাহরণস্বরূপ, তারা মাইকেল অ্যাঞ্জেলোর তৈরি করা “সেন্ট জন দ্য ব্যাপটিস্ট” (St. John the Baptist) নামক একটি ক্ষতিগ্রস্ত ভাস্কর্য পুনর্গঠন করেছেন, যা তাদের দক্ষতার প্রমাণ।
প্রদর্শনীতে আসা দর্শকরা যেন শিল্পকর্মগুলোর গভীরে প্রবেশ করতে পারে, সেজন্য তাদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। ফ্যাক্টাম আর্টের প্রজেক্ট ম্যানেজার সোল কস্টালেস ডলটন (Sol Costales Doulton) মনে করেন, শিল্পকর্মগুলোর সাথে সময় কাটানো দর্শকদের অনুভূতিকে বদলে দেয়।
এই প্রদর্শনীতে, আপনি ইতালির বাইরে এসেও মাইকেল অ্যাঞ্জেলোর শিল্পকর্মের বিশাল ভাণ্ডার উপভোগ করতে পারবেন।
তথ্যসূত্র: সিএনএন