মায়ানমারে ভূমিকম্প: মৃতের সংখ্যা প্রায় ২৯০০, ত্রাণ তৎপরতা অব্যাহত।
গত সপ্তাহে মায়ানমারে আঘাত হানা শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৮৮৬ জনে। দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এমআরটিভি’র বরাত দিয়ে এই খবর জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমগুলো।
ভূমিকম্পে আহত হয়েছেন ৪ হাজার ৬৩৯ জন এবং এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ৩৭৩ জন। উদ্ধারকর্মীরা দুর্গত এলাকাগুলোতে এখনো উদ্ধার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
তবে সেখানে চলমান গৃহযুদ্ধের কারণে উদ্ধার কাজ ব্যাহত হচ্ছে।
অন্যদিকে, প্রতিবেশী দেশ থাইল্যান্ডেও ভূমিকম্পের প্রভাব পড়েছে। সেখানে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২ জনে।
এছাড়া, ভূমিকম্পে বহু ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এখনো ৭২ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা মিয়ানমারের স্থানীয় রেড ক্রসের মাধ্যমে ত্রাণ সহায়তা হিসেবে ১৫ লাখ ইউয়ান (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ কোটি ৩৩ লাখ টাকা) দিয়েছে।
মঙ্গলবার মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর সদস্যরা চীনা রেড ক্রসের ত্রাণ বহরের ওপর গুলি চালালে চীন এই ঘোষণা দেয়। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের বরাত দিয়ে জানা যায়, চীন আশা করে মিয়ানমারের সকল পক্ষ ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্যার্থে ত্রাণ তৎপরতাকে অগ্রাধিকার দেবে এবং উদ্ধারকর্মী ও ত্রাণ সামগ্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
জাতিসংঘ জানিয়েছে, ভূমিকম্পে মিয়ানমারের ৬টি অঞ্চলের প্রায় ২ কোটি ৮০ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সংস্থাটি খাদ্য, আশ্রয়, জল, স্বাস্থ্যবিধি, মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা এবং অন্যান্য জরুরি সেবার জন্য ১ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৩০ কোটি টাকা) জরুরি তহবিল ঘোষণা করেছে।
এদিকে, ভূমিকম্পের পাঁচ দিন পর রাজধানী নেপিদোর একটি হোটেল ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত এক ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়েছে।
দুর্গত এলাকাগুলোতে ত্রাণ সহায়তা পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে, বিশেষ করে সাগাইং অঞ্চলের গ্রামীণ এলাকাগুলোতে বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ মিয়ানমারের সামরিক সরকারের প্রতি ত্রাণকর্মীদের নির্বিঘ্নে কাজ করার অনুমতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
একইসঙ্গে, সংস্থাটি সাহায্য সংস্থাগুলোর কাজে বাধা দূর করতে এবং আন্তর্জাতিক সাহায্য সরাসরি ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছে।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ-এর এশিয়া বিষয়ক উপ-পরিচালক ব্রায়োনি লাউ এক বিবৃতিতে বলেছেন, “মিয়ানমারের জান্তা সরকারের ওপর এই বিশাল দুর্যোগ মোকাবিলায় ভরসা করা যায় না।
আন্তর্জাতিক সংস্থা ও সরকারগুলোর উচিত, ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দিতে জান্তা সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা।”
উল্লেখ্য, ২০২১ সালে অং সান সু চি’র নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে মিয়ানমারের ক্ষমতা দখল করে সামরিক বাহিনী।
এরপর দেশটিতে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়, যার ফলে দেশটির অর্থনীতি এবং স্বাস্থ্যখাতসহ বিভিন্ন জরুরি পরিষেবা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তথ্য সূত্র: আল জাজিরা