যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য নীতিতে পরিবর্তনের জেরে গাড়ির দাম বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সাবেক ফোর্ড প্রধানের মতে, এই পরিবর্তনের ফলে গাড়ির দাম বাড়বে, যা একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।
এর কারণ হিসেবে তিনি আমদানি শুল্কের কথা উল্লেখ করেন।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আমদানি করা গাড়ির ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদন শিল্পকে চাঙ্গা করা।
শুধু তাই নয়, আগামী ৩ মে থেকে গাড়ির যন্ত্রাংশ আমদানির ওপরও শুল্ক বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে। ব্যাংক অব আমেরিকার হিসাব অনুযায়ী, যন্ত্রাংশ আমদানিতে ২৫ শতাংশ শুল্ক বসানো হলে, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তৈরি হওয়া গাড়ির দাম গড়ে প্রায় ৩,২৮৫ ডলার পর্যন্ত বাড়তে পারে।
এমনকি, যেসব গাড়ি যুক্তরাষ্ট্রের কারখানায় তৈরি হয়, সেগুলোর দামও বাড়বে, কারণ সেগুলোতে অনেক বিদেশি যন্ত্রাংশ ব্যবহার করা হয়। গোল্ডম্যান স্যাকসের হিসাব অনুযায়ী, শুল্কের কারণে বিদেশি গাড়িগুলোর দাম ৫,০০০ থেকে ১৫,০০০ ডলার পর্যন্ত বাড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, গাড়ির দাম বাড়লে এর সরাসরি প্রভাব পড়বে ক্রেতাদের ওপর। গাড়ির দাম এমনিতেই এখন অনেক বেশি, এমন পরিস্থিতিতে দাম আরও বাড়লে অনেক ক্রেতা গাড়ি কিনতে দ্বিধা বোধ করতে পারেন।
ব্যাংক অব আমেরিকার বিশ্লেষকদের মতে, দাম বাড়লে গাড়ির চাহিদা কমতে পারে। তারা ধারণা করছেন, যদি নির্মাতারা পুরো ২৫ শতাংশ শুল্ক ক্রেতাদের ওপর চাপিয়ে দেয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের গাড়ি বিক্রি প্রায় ২০ শতাংশ কমে যেতে পারে।
তবে, নির্মাতারা যদি শুল্কের কিছুটা অংশ বহন করে, তাহলেও গাড়ির বিক্রি কমবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে জানা যায়, ট্রাম্প গাড়ি প্রস্তুতকারকদের সঙ্গে আলোচনা করে দাম না বাড়ানোর জন্য চাপ সৃষ্টি করেছিলেন।
যদিও ট্রাম্প এক সাক্ষাৎকারে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
সাবেক ফোর্ড প্রধান মার্ক ফিল্ডস মনে করেন, গাড়ি প্রস্তুতকারকদের দাম বাড়াতে না বলার বিষয়টি বাস্তবসম্মত নয়। তাঁর মতে, এটি এক ধরনের মূল্য নিয়ন্ত্রণের শামিল।
হোয়াইট হাউস অবশ্য দাবি করেছে, শুল্কের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের গাড়ি উৎপাদন এবং কর্মসংস্থান বাড়বে। তবে, গাড়ির চাহিদা কমলে কিছু ক্ষেত্রে চাকরির সুযোগ কমে যেতে পারে।
গাড়ি প্রস্তুতকারকরা তাদের উৎপাদন খরচ কমাতে এবং শুল্কের প্রভাব কমাতে কিছু পদক্ষেপ নিতে পারে। এর মধ্যে একটি হলো, যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান কারখানায় আরও বেশি গাড়ি তৈরি করা।
তবে, নতুন কারখানা তৈরি করতে অনেক সময় এবং বিপুল পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতিতে চীনের গাড়ি প্রস্তুতকারকদের সুবিধা হতে পারে। কারণ, তারা এই শুল্কের প্রভাব থেকে মুক্ত থেকে উদ্ভাবন চালিয়ে যেতে পারবে।
যদি এমনটা হয়, তবে এর প্রভাব বাংলাদেশেও পড়তে পারে। কারণ, বাংলাদেশ বিভিন্ন দেশ থেকে গাড়ি আমদানি করে।
বিশ্ববাজারে গাড়ির দাম বাড়লে, বাংলাদেশের বাজারেও তার প্রভাব পড়বে এবং গাড়ির দাম বেড়ে যেতে পারে। একইসঙ্গে, যন্ত্রাংশ আমদানিতে শুল্ক বাড়লে, গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ খরচও বাড়তে পারে।
তথ্য সূত্র: সিএনএন