আর্সেনাল: দ্বিতীয় স্থানে থেকে কি ব্যর্থতা?
ফুটবল বিশ্বে একটি প্রচলিত ধারণা রয়েছে, যা হলো, কোনো দল যদি চ্যাম্পিয়ন না হতে পারে, তবে তাদের পারফর্মেন্সকে ব্যর্থতা হিসেবে গণ্য করা হয়। কিন্তু আর্সেনালের বর্তমান পরিস্থিতি কি সেই ধারণার সঙ্গে মেলে? হয়তো না।
আর্সেনালের এই মৌসুমে দ্বিতীয় স্থানে থাকা নিয়ে ফুটবল বোদ্ধাদের মধ্যে চলছে আলোচনা। কেউ বলছেন, শিরোপা জয়ের সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া হওয়ায় এটি একটি বড় ব্যর্থতা। আবার কারো মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে দ্বিতীয় স্থানও একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে যদি তাকাই, তবে দেখা যায়, আর্সেনালের শীর্ষ পর্যায়ে যাত্রা ১৯০৪ সাল থেকে শুরু। এই দীর্ঘ সময়ে আর্সেনালের সবচেয়ে ধারাবাহিক সাফল্যের সময় ছিল হার্বার্ট চাপম্যানের অধীনে, ১৯৩০-এর দশকে। এরপর আর্সেন ওয়েঙ্গারের সময়ে (১৯৯৮-২০০৫) দলটি টানা আট মৌসুম সেরা দুইয়ে ছিল। সেই সময়ে তাদের দলে ছিলেন থিয়েরি অঁরি, প্যাট্রিক ভিয়েরা’র মতো তারকা ফুটবলার। মিকেল আর্তেতার অধীনে বর্তমান আর্সেনাল দল সেই সাফল্যের কাছাকাছি পৌঁছেছে।
আর্সেনালের বর্তমান কোচ মিকেল আর্তেতার অধীনে দলটির পারফর্মেন্স বেশ ধারাবাহিক। আর্তেতার কোচিংয়ে আসার আগে দলটি লীগ টেবিলে ৮ম স্থানে ছিল। এরপর যথাক্রমে ৮ম, ৫ম, ২য়, ২য় এবং (সম্ভাব্য) ২য় স্থানে থেকেছে। লিভারপুলের অসাধারণ ফর্মের কারণে হয়তো এবারও তাদের দ্বিতীয় স্থান নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হতে পারে।
আর্সেনালের দ্বিতীয় স্থানে থাকার পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে। গত দেড় বছরে ভালো মানের গোল স্কোরারের অভাব একটি প্রধান সমস্যা। বুকাও সাকা, কাই হাভার্টজ, গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি, গ্যাব্রিয়েল জেসুস এবং মার্টিন ওডেগার্ডের মতো আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের ইনজুরির কারণেও দলটির পারফর্মেন্সে প্রভাব পড়েছে।
অন্যদিকে, আর্সেনালের খেলোয়াড়দের মধ্যে মাঠের খেলায় শৃঙ্খলা ও মানসিকতার অভাবও দেখা গেছে। এছাড়া, দলের খেলোয়াড়দের অতিরিক্ত উচ্ছ্বাস অনেক সময় তাদের দুর্বলতা প্রকাশ করে।
তবে, আর্সেনালের এই সাফল্যের পেছনে কোচ আর্তেতার অবদান অনস্বীকার্য। তিনি দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে কঠোর পরিশ্রমের মানসিকতা তৈরি করেছেন। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ৭-১ গোলে পিএসভি আইন্দহোভেনকে হারানোর পর আর্তেতা বলেন, এই জয় দলটিকে ভিন্ন ধরনের শক্তি যোগাবে।
সব মিলিয়ে, আর্সেনালের দ্বিতীয় স্থানে থাকাটা কোনো ব্যর্থতা নয়। বরং, এটি তাদের ধারাবাহিক সাফল্যেরই প্রমাণ।
তথ্য সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান