যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইক ওয়াল্টজ স্বীকার করেছেন যে, তিনি একটি ‘সিগন্যাল’ চ্যাট গ্রুপ তৈরি করেছিলেন, যেখানে অনিচ্ছাকৃতভাবে একজন সাংবাদিক যুক্ত হয়েছিলেন এবং এর মাধ্যমে ইয়েমেনে সম্ভাব্য বিমান হামলার ‘সংবেদনশীল’ তথ্য ফাঁস হয়ে যায়।
মঙ্গলবার দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ওয়াল্টজ জানান, এই ঘটনার ‘পূর্ণ দায়ভার’ তিনি নিচ্ছেন। মূলত, হোয়াইট হাউজের শীর্ষ কর্মকর্তাদের একটি গ্রুপের চ্যাট ছিল সেটি, যেখানে আটলান্টিক-এর প্রধান সম্পাদক জেফরি গোল্ডবার্গ-কে যুক্ত করা হয়।
এই গ্রুপে ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভেন্স, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিটার হেগসেথ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্ক রুবিও-সহ আরও প্রভাবশালী ব্যক্তিরা ছিলেন। তাঁদের আলোচনার বিষয় ছিল ইয়েমেনে হুতি বিদ্রোহীদের ওপর সম্ভাব্য হামলার ‘অপারেশনাল ডিটেইলস’ বা বিস্তারিত পরিকল্পনা।
গোল্ডবার্গ-কে কিভাবে এই গ্রুপে যুক্ত করা হলো, সে বিষয়ে ওয়াল্টজ বিস্তারিত কিছু বলতে চাননি। তবে তিনি জানান, এই ভুলের কারণ জানতে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘বিষয়টি খুবই বিব্রতকর। আমরা এর গভীরে যেতে চাইছি।’
ফক্স নিউজের এক অনুষ্ঠানে ওয়াল্টজ-কে প্রশ্ন করা হয়, গোল্ডবার্গের নম্বর কিভাবে গ্রুপে এলো? জবাবে তিনি বলেন, ‘কখনও এমন হয়েছে যে, আপনি কারও কন্টাক্ট সেভ করেছেন, যেখানে তাঁর নামের বদলে অন্য কারও নম্বর দেখাচ্ছে? সম্ভবত তেমন কিছু হয়েছে। আমি নিশ্চিত নই, তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে এই কাজ করেছেন কিনা, নাকি অন্য কোনো কারিগরি ত্রুটি ছিল।’
অন্যদিকে, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবশ্য ওয়াল্টজ-এর পক্ষ নিয়েছিলেন। তিনি এই ঘটনাটিকে ‘দুই মাসের মধ্যে হওয়া একমাত্র ভুল’ হিসেবে উল্লেখ করে এর গুরুত্ব কমিয়ে দেন। ট্রাম্পের মতে, ওয়াল্টজ একজন ভালো মানুষ এবং তিনি এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়েছেন।
তবে ডেমোক্র্যাট নেতারা এই ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। সিনেটের ইন্টেলিজেন্স কমিটির ভাইস-চেয়ারম্যান মার্ক ওয়ার্নার এটিকে ‘অসাবধানতা, এবং অযোগ্যতার আরও একটি উদাহরণ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার একে ‘সামরিক গোয়েন্দা তথ্যের গুরুতর লঙ্ঘন’ বলেও মন্তব্য করেন।
বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের খবর অনুযায়ী, গোল্ডবার্গের এই গ্রুপে যুক্ত হওয়া ‘গোয়েন্দা আইনের’ কয়েকটি ধারা লঙ্ঘিত হয়েছে। কারণ, ‘সিগন্যাল’-এর মতো কোনো অ্যাপ্লিকেশনে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আদান-প্রদানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদন নেই।
তথ্য সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান