যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে আগ্রহ হারাচ্ছেন পর্যটকেরা, ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির কারণে কমছে আগমন।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে ধাক্কা লাগতে পারে, যদি আন্তর্জাতিক পর্যটকদের আগমন কমে যায়। একটি প্রভাবশালী ভ্রমণ বিষয়ক গবেষণা সংস্থা সম্প্রতি জানিয়েছে, চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেতে পারে। এর মূল কারণ হিসেবে তারা দেখছে ট্রাম্প প্রশাসনের বাণিজ্য নীতি এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক বিষয়ক বিতর্কিত মন্তব্য ও পদক্ষেপসমূহকে।
পর্যটন বিষয়ক গবেষণা সংস্থা ‘ট্যুরিজম ইকোনমিক্স’ তাদের পূর্বাভাসে জানিয়েছে, ২০২৪ সালে বিদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণকারীর সংখ্যা প্রায় ৯.৪ শতাংশ কমতে পারে। এই হার তাদের আগের পূর্বাভাসের চেয়ে অনেক বেশি। বছরের শুরুতে সংস্থাটি আন্তর্জাতিক ভ্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছিল, যেখানে তারা ৯ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখেছিল। কিন্তু বছর গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে শুরু করে।
সংস্থাটির প্রেসিডেন্ট অ্যাডাম স্যাকস বলেন, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তগুলোতে ইউরোপীয় পর্যটকদের হয়রানির ঘটনা আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীদের মধ্যে ভীতি তৈরি করেছে। এছাড়া, শুল্ক বৃদ্ধি, কানাডা ও গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্য এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তার উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়—এসব বিষয়ও সম্ভাব্য পর্যটকদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে। তিনি আরও বলেন, “প্রতিটি নীতি পরিবর্তন, প্রতিটি বিতর্কিত মন্তব্য—প্রশাসনের পক্ষ থেকে যেন একটার পর একটা ভুল করা হচ্ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে আন্তর্জাতিক ভ্রমণে।”
পর্যটকদের সংখ্যা কমে গেলে এর প্রভাব পড়বে বিমান সংস্থা, হোটেল, জাতীয় উদ্যানসহ পর্যটকদের আনাগোনা রয়েছে এমন অনেক স্থানে। বিশেষ করে কানাডা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণকারীর সংখ্যা প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর ফলে নিউইয়র্ক ও মিশিগানের মতো সীমান্ত রাজ্যগুলো এবং ক্যালিফোর্নিয়া, নেভাডা ও ফ্লোরিডার মতো জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের একটি বাণিজ্য সংগঠন ‘ইউএস ট্র্যাভেল অ্যাসোসিয়েশন’ও কানাডিয়ান পর্যটকদের সংখ্যা কমে যাওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছে। তাদের মতে, কানাডা থেকে পর্যটকদের আগমন ১০ শতাংশ কমলে প্রায় ২০ লাখ ভ্রমণকারীর আগমন কমবে, যা প্রায় ২.১ বিলিয়ন ডলারের (বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী, প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকার বেশি) ক্ষতি ডেকে আনবে এবং ১৪ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হ্রাস করবে।
অন্যান্য ভ্রমণ সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোও উদ্বেগের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এয়ার কানাডা তাদের বার্ষিক শেয়ারহোল্ডার বৈঠকে জানিয়েছে, এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে তাদের টিকিট বুকিং গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১০ শতাংশ কমে গেছে।
আডাম স্যাকস এর মতে, বিদেশি পর্যটকদের আগমন হ্রাস পাওয়ার কারণে যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলার (বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী, প্রায় ১ লক্ষ ৫ হাজার কোটি টাকার বেশি) রাজস্ব হারাতে পারে। যদিও বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর উদ্দেশ্যে শুল্ক আরোপ করা হচ্ছে, তবে এর ফলে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের আগমন কমে যাওয়ায় বাণিজ্য ভারসাম্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
আগে ধারণা করা হয়েছিল, করোনা মহামারীর কারণে পর্যটন খাতে যে ক্ষতি হয়েছিল, তা ধীরে ধীরে কাটিয়ে ওঠা যাবে এবং ২০১৯ সালের আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়া সম্ভব হবে। কিন্তু নতুন এই পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পর্যটন খাত স্বাভাবিক হতে ২০২৯ সাল পর্যন্ত লেগে যেতে পারে।
তথ্য সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস