জাম্বিয়ার মহিলা ফুটবল দল আসন্ন কিছু ম্যাচের জন্য তাদের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী চারজন খেলোয়াড়কে দল থেকে সরিয়ে নিয়েছে। এর কারণ হিসেবে জানা গেছে, ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতি নিয়ে তাদের উদ্বেগ।
খেলোয়াড়দের আশঙ্কা, বিদেশ থেকে ফিরে আসার পর তাদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে সমস্যা হতে পারে। বুধবার জাম্বিয়া ফুটবল ফেডারেশন এই ঘোষণা দেয়।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অভিবাসন নীতি বিদেশিদের জন্য জটিলতা তৈরি করেছে। বিশেষ করে যারা বিভিন্ন সময়ে দেশ ছেড়ে বাইরে যান, তাদের পুনরায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
জানা গেছে, সম্প্রতি ফ্রান্সে থেকে আসা এক বিজ্ঞানীকে হিউস্টনে একটি সম্মেলনে যোগ দেওয়ার সময় আটক করা হয়েছিল এবং তার ফোনও তল্লাশি করা হয়।
জাম্বিয়ার এই দলটিকে থাইল্যান্ড এবং চীন অথবা উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধে খেলতে চীন যাওয়ার কথা রয়েছে। জানা গেছে, অরল্যান্ডো প্রাইড দলের বারব্রা বান্দা, প্রিসকা চিলুফিয়া এবং গ্রেস চান্দা-র সাথে বে’এফসি’র র্যাচেল কুন্দানানজিও এই ম্যাচগুলোতে খেলতে পারবেন না।
বারব্রা বান্দা জাম্বিয়ার দলের অধিনায়ক এবং দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়।
জাম্বিয়া ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএজেড) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্ত ‘যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রশাসনের নেওয়া অতিরিক্ত ভ্রমণ বিধিনিষেধের কারণে’ নেওয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, জাম্বিয়ার ওয়াশিংটন ডিসি-তে অবস্থিত মিশন এবং খেলোয়াড়দের ক্লাবগুলোর পরামর্শ অনুযায়ী এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এফএজেড-এর সাধারণ সম্পাদক রিউবেন কামাঙ্গা জানান, ‘নতুন বিধিনিষেধের কারণে খেলোয়াড়দের এই মুহূর্তে দল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে তারা অবশ্যই দলের হয়ে খেলবে।’
উল্লেখ্য, ট্রাম্প প্রশাসনের সময়ে বেশ কয়েকজন বিদেশি নাগরিকের ভিসা বাতিল করা হয়েছে এবং অনেক বৈধ অভিবাসীকে বিভিন্ন কারণে, যেমন- ট্রাম্পের সমালোচনা অথবা গ্যাংয়ের সাথে জড়িত থাকার সন্দেহে, তাদের দেশ থেকে বিতাড়িত করা হয়েছে।
যদিও কিছু ক্ষেত্রে ভুলবশত এমনটা ঘটেছে বলে জানা যায়। এমনকি, যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ভিসার উপর ব্যাপক পর্যালোচনা করার নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং ৩০০ জনের বেশি ভিসা বাতিলের ঘোষণা করেছিলেন।
এছাড়াও, জাম্বিয়া যেখানে খেলতে যাচ্ছে, সেই চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য যুদ্ধ চলছে। তাই সব দিক বিবেচনা করে খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা এবং সুবিধার কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তথ্য সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান