যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (USAID)-এর অর্থায়ন সংক্রান্ত জটিলতায় বিশ্বজুড়ে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের জীবন রক্ষাকারী খাদ্য সরবরাহ মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে, যা উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
**অর্থ সংকটে জীবন রক্ষাকারী কর্মসূচি**
যুক্তরাষ্ট্র সরকারের বৈদেশিক সহায়তা কার্যক্রমের পুনর্গঠনের ফলস্বরূপ, USAID-এর কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে বিভিন্ন মানবিক সহায়তা প্রদানকারী সংস্থার চুক্তি বাতিল হয়েছে, অথবা তাদের অর্থ পরিশোধে বিলম্ব হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়েছে সেসব সংস্থা, যারা শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর খাদ্য সরবরাহ করে।
“প্ল্যাম্পি নাট” (Plumpy’Nut) নামক বিশেষ প্রক্রিয়াজাতকৃত বাদাম মাখন সরবরাহকারী একটি সংস্থা, যা গুরুতর অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের জীবন বাঁচানোর জন্য কাজ করে, তারা জানিয়েছে, অর্থ সংকটের কারণে কর্মীদের ছাঁটাই করতে হয়েছে এবং উৎপাদনও কয়েক সপ্তাহের জন্য বন্ধ রাখতে হয়েছিল। একই ধরনের খাদ্য উৎপাদনকারী আরেকটি সংস্থা ব্যাংক অফ আমেরিকার কাছ থেকে ঋণ নিয়ে কোনোরকমে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
**অর্থ পরিশোধে ধীরগতি, বাড়ছে উদ্বেগ**
জানা গেছে, ২০১৮ সালের শেষ প্রান্তিকের পর থেকে USAID-এর কাছ থেকে এই সংস্থাগুলো কোনো অর্থ পায়নি। যদিও আদালত USAID-কে দ্রুত অর্থ পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছে, কিন্তু প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত ধীরগতিতে চলছে। অনেক সংস্থা এখনো তাদের প্রাপ্য অর্থ পায়নি।
মানবিক সহায়তা প্রদানকারী সংস্থাগুলো বলছে, সময়মতো অর্থ না পেলে তাদের পক্ষে কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। কর্মী ছাঁটাইয়ের পাশাপাশি অনেক কর্মসূচি বন্ধ হয়ে যাওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, অনেক সংস্থাকে তাদের কর্মীদের বেতন দেওয়া এবং অফিসের ভাড়াও পরিশোধ করতে সমস্যা হচ্ছে।
**ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে স্বাস্থ্যখাত**
এই অর্থ সংকটের কারণে শুধু খাদ্য সরবরাহই নয়, বরং যক্ষ্মা (Tuberculosis) এবং এইচআইভি/এইডস-এর মতো রোগের চিকিৎসা কার্যক্রমও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়া, বিদেশি সাহায্য সংস্থাগুলোর সঙ্গে কাজ করা স্থানীয় কর্মীরাও এখন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। কারণ, তাদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক রাখার অভিযোগ আসতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, USAID-এর এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণে মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়বে। সাহায্য সংস্থাগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আস্থার সংকট তৈরি হবে, যা ভবিষ্যতে সহায়তা কার্যক্রমকে আরও কঠিন করে তুলবে।
**ভবিষ্যতের পরিকল্পনা ও বিকল্প ব্যবস্থা**
সংস্থাগুলো এখন USAID-এর ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে বিকল্প পথ খুঁজছে। তারা বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। তবে, দীর্ঘমেয়াদে এই ধরনের পরিকল্পনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে বিশ্বজুড়ে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং এর ফলস্বরূপ সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হচ্ছে অপুষ্টিতে ভোগা শিশুরা।
তথ্য সূত্র: সিএনএন