ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্যনীতি: বিশ্ব অর্থনীতি ও বাংলাদেশের জন্য এর তাৎপর্য।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, যার প্রভাব এখন বিশ্বজুড়ে দৃশ্যমান। ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম এবং গাড়ির মতো গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের ওপর এই শুল্ক আরোপের মূল উদ্দেশ্য ছিল বাণিজ্য ঘাটতি কমানো এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ উৎপাদনকে উৎসাহিত করা।
তবে, এই পদক্ষেপের ফলে বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়তে পারে এবং এর ফলস্বরূপ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থান কমে যাওয়ারও আশঙ্কা রয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের এই শুল্ক নীতির কারণে মেক্সিকো, চীন এবং কানাডার মতো যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান বাণিজ্য অংশীদারদের সঙ্গে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প মনে করেন, এই দেশগুলো বাণিজ্য ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ন্যায্য আচরণ করছে না।
উদাহরণস্বরূপ, তিনি চীনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বাজার সুবিধা না দেওয়ার অভিযোগ করেছেন। শুধু তাই নয়, ট্রাম্প এই শুল্ক আরোপের সঙ্গে অবৈধ অভিবাসন এবং মাদক পাচার বন্ধের মতো বিষয়গুলোকেও যুক্ত করেছেন, যা বাণিজ্য নীতির একটি ব্যতিক্রমী দিক।
২০১৮ সালের মার্চ মাসে, ট্রাম্প প্রশাসন ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম আমদানির ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে। এই দুটি পণ্যের ক্ষেত্রে কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম সরবরাহকারী।
তবে, এই শুল্ক নীতি সেই শিল্পগুলির সুরক্ষায় কতটা সহায়ক হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদনকারী কোম্পানি অ্যালকোয়ার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) উইলিয়াম ওপলিংগার সতর্ক করে বলেছিলেন, এই শুল্কের কারণে প্রায় ১ লক্ষ মার্কিন কর্মীর চাকরি হারানোর সম্ভাবনা রয়েছে, যার মধ্যে তাঁর কোম্পানিরই ২০ হাজার কর্মী রয়েছেন।
এছাড়াও, ৩ এপ্রিল থেকে গাড়ির ওপর এবং মে মাসের শুরু থেকে গাড়ির যন্ত্রাংশ আমদানির ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রে গাড়ির উৎপাদন বাড়লেও, আমদানিকৃত গাড়ির দাম বৃদ্ধির কারণে আমেরিকানদের বেশি অর্থ খরচ করতে হতে পারে।
আগের মার্কিন প্রশাসনগুলো সাধারণত জাতীয় নিরাপত্তা এবং অভ্যন্তরীণ শিল্প রক্ষার জন্য শুল্ক ব্যবহার করত। কিন্তু ট্রাম্পের বাণিজ্যনীতির পেছনে বিভিন্ন কারণ ছিল, যা পূর্ববর্তী সরকারগুলোর থেকে ভিন্ন।
এই শুল্ক নীতি বিশ্ব অর্থনীতির ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে, বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম বাড়লে বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও তার প্রভাব পড়তে পারে।
উদাহরণস্বরূপ, যদি ইস্পাত বা গাড়ির যন্ত্রাংশের দাম বাড়ে, তবে তা বাংলাদেশের শিল্প ও পরিবহন খাতে খরচ বাড়িয়ে দিতে পারে।
সুতরাং, ট্রাম্পের এই বাণিজ্যনীতি শুধু যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নয়, বরং বিশ্ব অর্থনীতি এবং বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। এর প্রভাব গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
তথ্য সূত্র: সিএনএন