গ্রীস প্রায় ২৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ে একটি বিশাল সামরিক আধুনিকীকরণ কর্মসূচি শুরু করেছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিতসোতাকিস একে সশস্ত্র বাহিনীর ইতিহাসে “সবচেয়ে বড় পরিবর্তন” হিসেবে অভিহিত করেছেন। এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হলো তুরস্কের সঙ্গে বিদ্যমান উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে গ্রীসের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি করা এবং একইসঙ্গে বৃহত্তর ইউরোপীয় নিরাপত্তা উদ্বেগের সমাধান করা।
নতুন এই কর্মসূচির কেন্দ্রবিন্দু হলো ‘শিল্ড অফ অ্যাকিলিস’ নামের একটি বহুস্তর বিশিষ্ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এই ব্যবস্থাটি ক্ষেপণাস্ত্র, বিমান, জাহাজ, সাবমেরিন এবং ড্রোনসহ বিভিন্ন ধরনের হুমকি মোকাবিলায় সক্ষম। গ্রীসের প্রতিরক্ষা বাজেট দেশটির মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের (জিডিপি) ৩ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে, যা ইউরোপীয় ইউনিয়নের গড় ১.৯ শতাংশের চেয়ে অনেক বেশি। এই অর্থ ব্যয়ে অত্যাধুনিক সামরিক সরঞ্জাম কেনা হবে।
সামরিক শক্তি বাড়ানোর এই প্রক্রিয়ায় গ্রীস একদিকে যেমন ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করছে, তেমনিভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও তাদের সহযোগিতা বজায় রাখছে। ফ্রান্সের কাছ থেকে উন্নত রাফাল যুদ্ধবিমান এবং বেলহারার মতো অত্যাধুনিক ফ্রিগেট জাহাজ কেনার চুক্তি এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এর পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান কেনারও পরিকল্পনা রয়েছে গ্রীসের।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পক্ষ থেকেও গ্রীসকে প্রতিরক্ষা খাতে সহায়তা করা হচ্ছে। ইইউ সামরিক ব্যয়ের ক্ষেত্রে কিছু বিধিনিষেধ শিথিল করেছে এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে প্রতিরক্ষা শিল্পকে শক্তিশালী করতে স্বল্প সুদে ঋণ দিচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে গ্রীস নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তোলার দিকেও মনোযোগ দিচ্ছে। দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাঁরা চান গ্রীক কোম্পানিগুলো যেন ইউরোপীয় প্যাট্রোল কর্ভেট নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, গ্রীস একদিকে যেমন ইউরোপের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক গভীর করতে চাইছে, তেমনিভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে চাইছে, যা দেশটির জন্য একটি ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান তৈরি করবে।
তথ্য সূত্র: আল জাজিরা